সাম্প্রতিক :
মুখে বলবে- নারী স্বাধীনতা, কিন্তু করবে নারী দিয়ে ব্যবসা। একটি পেঁপের মূল্য ১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা! করোনায় আতংক নয়! সামান্য কয়েক টাকায় করোনার চিকিৎসা! দাবী বাংলাদেশী গবেষকের।। একটি মানবিক আবেদন – মনিরুল ইসলাম উপহারের নামে প্রতারনা! সতর্ক না হলে সর্বস্ব হারাবেন!! মানবিক সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে আবেদন। মে মাসে ১২ তারিখে সুরাইয়া নামক নক্ষত্রের উদয় ও করোনার বিদায় একজন সৎ সঙ্গী আপনাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারে। যদি আপনি তাকে অনুসরন করেন। ভাইরাল করলে এটা করুন! কাজে আসতে পারে। সিলেট ওসমানি হাসপাতাল! দরকার হলে মাটি খেয়ে পড়ে থাকুন! তবুও ঘরেই থাকুন। কেন বলছি, হিসাবটা মিলিয়ে দেখুন ||
কি লাভ হল? আজহারিকে তাড়িয়ে! এর জন্য দায়ী কারা ?

কি লাভ হল? আজহারিকে তাড়িয়ে! এর জন্য দায়ী কারা ?

মিজানুর রহমান আজহারি, যিনি বাংলাদেশের জাকির নায়েক নামে পরিচিত।
এদেশের যুবসমাজের প্রায় ৭০ শতাংশই ছিল তার ভক্ত। যা উনার যোগ্যতার একটা বড় প্রমান। এতটাই জনপ্রিয়তা তৈরী হয়েছিল যে, উম্মাহকে একত্রিত করার একজন প্রতিনিধির সম্ভাবনা জেগে উঠেছিল। অসংখ্য যুবরা আলোর পথে হাটতে শুরু উনার নসিহত শুনে। ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেছিল কিছু যুবক-যুবতী, যারা ইসলামের ধারে কাছেও ছিলনা। হতাস মুমিনগন আশার আলো খুজেছিল আজহারীর কাছে। তাদের সন্তানদের কে আলোর পথ দেখাবে, তার উত্তর পেতে শুরু করেছিল।

ঠিক সেই মুহুর্তে তার প্রতিধন্ধি একদল আলেম সমাজ একই প্লাটফর্মে এসে উঠেপরে লাগলো আজহারীর পেছনে।
যদিও তারা ভিন্ন মতাবলম্বী, তবুও আজহারীকে তাড়াতে একজোট। প্রশ্ন আসতে পারে আমার দিকে।
তুমি কি জানো ? আজহারী কত বড় অন্যায় করেছে তা জানো ?
আজহারী বলেছে- মা খাদিজাতুল ক্বোবরা তালাক প্রাপ্তা, বুড়ি, ইত্যাদি ইত্যাদি, আরো অনেক আছে।
হ্যা, আলেম সমাজ!
আমরা জানি, আজহারী অন্যায় করেছে। আর এও জানি, পৃথিবীতে নবী রাসুল ব্যাতিত কোন মানুষ ভূলের উর্ধে নয়।
আজহারী সাহেবও ভূল করতে পারে। কিন্তু ঐ ভূলের জন্য সবার উপর একই রকম প্রতিবাদ করা মুমিনদের কাজ নয়। একজন আলেমকে তার ভূলের জন্য সাধারন মানুষের নিকট নোংরাভাবে উপস্থাপন করাটাও একটা ভূল। কারন এতে করে সাধারন মানুষ আলেমদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করার সাহস পাবে। অথচ তারা ওয়ারাসাতুল আম্বিয়া। অর্থাৎ নবীর ওয়ারিসকে নিয়ে ঠাট্টা করা নবীকে নিয়ে ঠাট্টা করা সমান। আর নবীকে নিয়ে ঠাট্টা করলে, তখনকার আমলের মুনাফিকদের কাতারে আমাদেরকে দাড়াতে হবে, মুমিনদের কাতারে নয়। আলেমগন কি চাইলেন?? মুসলিম সমাজে একে অপরের নোংরা সমালোচনা করে, উম্মাহকে মুনাফিক বানাতে নাকি একে অপরের ভূল শুধরে, ভ্রাত্বিত্তের বন্ধনকে আরো জোরালো করতে। কোনটা?

প্রিয় পাঠক ! আমি কি বুজাতে চাইলাম!
মিজানুর রহমান আজহারীর কিছু আলোচনার মধ্যে এমন কিছু ভাষা ব্যাবহার করেছেন, তা ব্যাবহার করা অনুচিত। আর এ বিষয়টা তার ফোন নাম্বারে, সম্ভব না হলে তার ফেসবুক আইডিতে, তাও সম্ভব না হলে তার ফেজবুক পেজে, মেসেজ বা কমেন্টের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া যেত, আজহারী সাহেব, আপনার সাথে জরুরী কথা আছে। অথবা সরাসরী বলা যেত, আপনার আলোচনায় কিছু কর্কশ ভাষা এসেছে, এগুলো ঠিক করে না নিলে উম্মাহদের মধ্যে বিবেধ সৃষ্টি হবে। আর আমি বা আমরা চাইনা আপনাকে নিয়ে কোন বিবেধ সৃষ্টি হউক। ইতি অমুক।

অথবা আপনি বড় আলেম তাই আপনার আলোচনার ফাকে কেউ আজহারীকে নিয়ে প্রশ্ন করায়, আপনি তাকে সুন্দরভাবে একটা উত্তর দিয়ে, আপনার ওয়াজে বা আলোচনায় যেভাবে পাবলিকের সাথে তাল মিলিয়ে নোংরা মন্তব্য করেছিলেন, সেভাবে না করে যদি জবাবে বলতেন, আমি আজহারীর সাথে দেখা করব এবং তাকে বলে দিবো এমন আলোচনা যেন আর করে। আপনারা তাকে শাষন করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে, তাকে তাড়িয়ে দিলেন। অবশেষে শান্তি পেলেন। অথচ, শান্তি পাওয়ার কথা ছিল শয়তানের !
যাক, লাভ হল কার ?

এন্টি-ইসলামিক পার্টি ও অনৈসলামিক পাবলিকের সবচেয়ে বেশী লাভ হয়েছে।
এতক্ষন বললাম আজহারী বক্তের পক্ষে, এবার বলি আসল সত্যের পক্ষে ।
আজহারীর কিছু বক্ত উনার আলোচনা শেয়ার করতে গিয়ে, কিছু ভাষা প্রয়োগ করেন এমনভাবে, যেন কারো সমর্থন যোগাতে নয়, বরং কাউকে আক্রমন করার জন্য।
যেমন – মাজার পূজারী, সুন্নীরা, শিন্নিখাওয়ার দল ইত্যাদি ইত্যাদি।
অথচ শেয়ারকারীরা এই শব্দগুলো ব্যাবহার না করলেও পারতেন। এই শব্দগুলোর কারনে একটা সাম্প্রদায়ীকতা বা গোত্র তৈরী হয়ে গিয়েছিল। আজহারী শুধু জামাতের বা আহলে হাদীসের বা কউমীদের।
আরে ভাই, মতবাদ শব্দটা আজ থেকে নয়, হাজার বছর আগে থেকেই ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগের মত নয়। আপনাদের মত আক্রমনাত্মক ছিলনা।

একটা কাল্পনিক গল্প বলেই আমার আলোচনা শেষ করব
খৃষ্টপর্ব ৭০০ সালে যখন ইউরোপ থেকে শুরু করে দূরপ্রাচ্যের আনাচে কানাচে ইসলামের পতাকা উড়তে শুরু করল।
বিভিন্ন দেশ থেকে খৃষ্টান প্রতিনিধিরা আতংকিত হয়ে, তাদের পাদ্রী (ধর্মগুরু) র নিকট মুসলিম ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরীফ নিয়ে, কাঁদতে কাঁদতে আরজি জানালো হে ফাদার! আমাদের গোত্রকে বাচাঁন! ধর্মকে বাচাঁন।
পাদ্রী এসব শুনে বলল- কি হয়েছে আমাদের ধর্মের? তখন প্রতিনিধি দলের হাতে থাকা কোরআন শরীফ পাদ্রীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল- এই পুস্তকে কি এমন গল্প আছে, যা পড়ে আমাদের ধর্ম ত্যাগ করে মানুষ তাদের ধর্মে যোগ দিচ্ছে। এভাবে যদি চলতে থাকে, একদিন খৃষ্টান ধর্ম বিলিন হয়ে যাবে। সেই ভয়ে আপনার নিকট আসছি একটা কিছু করেন। যেন ধর্মটা ঠিকে থাকে।
পাদ্রী এবার একটু আতংকিত হয়ে বলল- কি বলছ এসব। দেখি কি এনেছ ! সব ভাষায় পারদর্শী পাদ্রী যখন কোরআন পড়ল, প্রথমে ভয়ের ছাপ থাকলেও পড়ে হেসে উঠল।
প্রতিনিধি দলের কয়েকজন রাগান্বিত স্বরে বলে উঠল- আমরা আতংকিত হয়ে চিন্তিত, অথচ আপনি পাদ্রী হয়ে খুশি হন কিভাবে?
যেখানে আমাদের ধর্মটাই বিলিনের পথে, আর আপনি হাসছেন।
পাদ্রী বলল – তোমরা বইটা পড়েছ?
তারা বলল – না। অতপর, পাদ্রী তাদেরকে বলল- এই বইয়ে যা লিখা আছে তা সত্য ! এই বই যারা পড়বে এবং বুজবে তারা এই ধর্মের অনুসারী হয়ে যাবে, এটা আটকানো যাবেনা।
তারা বলল – তাহলে উপায়!
পাদ্রী বলল- আমি হেসেছি কেন জানো? আমি হেসেছি এজন্যই যে, এই বইয়ের কিছু ব্যাখ্যা নিয়ে মুসলিমরা তাদের ধর্মগুরুর কাছে যাবে, একেকজন গুরু একেকভাবে ব্যাখ্যা করবে, আর এই ব্যাখ্যা একেকজনের সাথে সাংঘর্ষিক হবে।
অতপর তারা ভিন্ন ভিন্ন গোত্রে বিভাজিত হবে, এক পর্যায়ে তারা নিজেদের মধ্যে বিবাধে জরিয়ে যাবে। আর সেই বিরোধ গোত্র থেকে গোত্রে ছড়িয়ে পরবে। এভাবেই তারা একসময় বিলিনের পথে চলে আসবে। এবং তারা তাদের মুলধারায় আর ফিরে যেতে পারবেনা।

প্রিয় পাঠক ! পাদ্রীর ধারনাই কি সঠিক হবে ?
আমরা কতগুলো গোত্রে পরিনত হচ্ছি জানেন?? আমরা কতটা বিরোধে জড়িয়ে গেছি জানেন?? এ থেকে পরিত্রানের উপায় কি জানেন ?
উত্তর একটাই ! হারজিতের জন্য নয়, সমাধানের জন্য সুন্দর আলোচনা, কাঁদাচুড়াচুরি বন্ধ করা, হিংসাত্মক বা আক্রমনাত্মক বক্তব্য বন্ধ করা।
একজন অন্যজনকে ভালবাসা, সম্মান দেখানো।
আমরা কি পারবো?
আপনার আরেক ভাইকে এই প্রচার পৌছে দায়ীত্ব আপনার, শেয়ার করলেই আরেকজন জানবে। কোন কিছু লিখার থাকলে যোগাযোগ অপশন আছে। জানাতে বা লিখতে পারবেন।
আল্লাহ হাফেজ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মানবতার ডাক - ২০২০
Development By Eliyas Ahmed