সাম্প্রতিক :
মুখে বলবে- নারী স্বাধীনতা, কিন্তু করবে নারী দিয়ে ব্যবসা। একটি পেঁপের মূল্য ১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা! করোনায় আতংক নয়! সামান্য কয়েক টাকায় করোনার চিকিৎসা! দাবী বাংলাদেশী গবেষকের।। একটি মানবিক আবেদন – মনিরুল ইসলাম উপহারের নামে প্রতারনা! সতর্ক না হলে সর্বস্ব হারাবেন!! মানবিক সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে আবেদন। মে মাসে ১২ তারিখে সুরাইয়া নামক নক্ষত্রের উদয় ও করোনার বিদায় একজন সৎ সঙ্গী আপনাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারে। যদি আপনি তাকে অনুসরন করেন। ভাইরাল করলে এটা করুন! কাজে আসতে পারে। সিলেট ওসমানি হাসপাতাল! দরকার হলে মাটি খেয়ে পড়ে থাকুন! তবুও ঘরেই থাকুন। কেন বলছি, হিসাবটা মিলিয়ে দেখুন ||
দরকার হলে মাটি খেয়ে পড়ে থাকুন! তবুও ঘরেই থাকুন। কেন বলছি, হিসাবটা মিলিয়ে দেখুন ||

দরকার হলে মাটি খেয়ে পড়ে থাকুন! তবুও ঘরেই থাকুন। কেন বলছি, হিসাবটা মিলিয়ে দেখুন ||

বাংলাদেশে মোট মৃত রোগীর সংখ্যা ৩৯ জন আর সুস্থ ৪২ জন। সংখ্যাটা আবার ভালোমতো দেখেন। মারা যাওয়া আর সুস্থ হওয়ার সংখ্যা প্রায় সমান সমান। সুস্থ হওয়ার বিপরীতে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ৫০% শতাংশ! কিন্তু আল্লাহ না করুক আপনি যদি করোনায় আক্রান্ত হন আপনার বাচার সম্ভাবনা যতোটুকু তারচেয়েও বেশি সম্ভাবনা আপনি মারা যাচ্ছেন! কিভাবে সেটা পরে দেখাচ্ছি!

এবার গোটা পৃথিবীর দিকে তাকান। মোট আক্রান্ত ১৮ লাখ ৫৩ হাজার। সুস্থ ৪ লাখ ২৩ হাজার। আর মৃত্যু ১ লাখ ১৪ হাজার। কতোজন আক্রান্তের বিপরীতে কতোজন মারা যাচ্ছে এটা দেখে লাভ নাই। কতোজন মৃত্যুর বিপরীতে কতোজন সুস্থ হচ্ছে এইটা দেখেন। অবস্থা ভয়াবহ। চারজন সুস্থের বিপরীতে একজন মারা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সাড়ে ১৮ লাখ আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছে কিংবা সুস্থ হয়েছে সাড়ে পাচলাখের মতো।

আর বাকি ১৩ লাখ?

তারা জীবন আর মৃত্যুর মাঝামাঝি জাস্ট ঝুলে আছে। কেউ ঝুলে আছে তার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে। এইখানে মার খেয়ে গেলে। সে আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেটরে ঝুলে থাকছে। বিশ্বাস করেন এইটাকে বেচে থাকা বলে না।

এইবার আমাদের দেশের দিকে তাকান। পৃথিবীতে যেখানে ৪ জন সুস্থের বিপরীতে ১ জন সুস্থ হচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে প্রায় ১ জন সুস্থের বিপরীতে ১ জন মারা যাচ্ছে।

আমাদের একমাত্র সম্বল আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এবং সেটার অবস্থাও তেমন একটা ভালো না। দিনের পর দিন খাদ্যে ভেজাল খেয়ে খেয়ে আর দূষিত বাতাসে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য কে শেষ করে দিয়েছি তিলে তলে। একারণে চল্লিশের কোঠা পেরোলেই আমাদের স্বাস্থ্য ফল করে। হয় কেউ ডায়াবেটিস নাহয় কিডনী অথবা হার্টের সমস্যা কিংবা থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগি। সিগারেট খেতে খেতে ফুসফুসের আঠাশটা অলরেডি বেজে আছে। আর সাথে বিশাল সংখ্যক ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী তো আছেই।

বাচবো কিভাবে আমরা?

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন ভাইরাসের সাথে পেরে উঠবে না আপনাকে তখন পাঠাতে হবে আইসিইউ এবং ভেন্টিলেটরে। বাংলাদেশে আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেটরের সংখ্যা কত জানেন? একহাজারেরও।কম!!

আমি আপনি তো আমজনতা, দেশে শতকোটি টাকার মালিকও প্রভাব প্রতিপত্তি না থাকলে আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেটর পাবে না। কিছু করার নাই! দেশে শতকোটি টাকার মালিক আর ক্ষমতা হাতের মুঠোয় রাখা ভি আই পি দের সংখ্যা এক হাজারের চেয়ে অনেক অনেক বেশি!

আমাকে আপনাকে কে বাচাবে?

ইউরোপ আমেরিকার মতো দেশগুলোকেও আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেটর স্বল্পতার কারণে বেছে নিতে হয়েছে কাকে বাঁচাবে আর কাকে বাঁচাবে না। দেখা গেলো একজনের বয়স ষাট আর আরেকজনের চল্লিশ। হাতে আইসিইউ মাত্র একটা। তারা চল্লিশ যার বয়স তাকে বেছে নিতে বাধ্য হইছে। সে বেচে গেলে দেশকে কিছু দিতে পারবে। যার বয়স ষাট তার দেশকে দেয়ার কিছু নাই। তাকে মরতে হবে! স্যাড বাট নাথিং টু ডু।

যে দেশগুলাতে প্রতিটা মানুষের লাইফ ম্যাটার করে তারাও পিছু হটতে বাধ্য হইছে। সেখানে আমাদের দেশে কোন লাইফই ম্যাটার করে না। উই আর জাস্ট নাম্বার্স! এ কারণে দেশ অঘোষিত লকডাউনে থাকলেও লাখসংখ্যক গার্মেন্টস কর্মীদের সত্তর কি.মি হাটিয়ে নিয়ে ঢাকা নিয়ে যেতে পেরেছি।

কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা,আসিইউ কিংবা ভেন্টিলেটর অথবা দেশের লকডাউন কোনকিছুই সমাধান নয়। এগুলা আপনার ফেসিলিটি। সমাধান একমাত্র ভ্যাক্সিনে। যতোদিন ভ্যাক্সিন না আসবে করোনা ভাইরাস আস্তে আস্তে ধেয়ে যাবে দেশের প্রতিটা অলিগলিতে,প্রতিটি পরিবারে,প্রত্যেক মানুষের কাছে। তাকে আটকাতে পারবেন না।

যে দেশে কোটিরও বেশি মানুষ দিন আনে দিন খায়। সে দেশে লকডাউন কখনোই কাজে দিবে না। যাদের পেটে খাবার নাই, তারা অলরেডি মরে আছে। তাদের করোনার ভয় দেখিয়ে লাভ নাই। তাদের ত্রাণের চাল চুরি করেও লাভ নাই। আজকে তারা ট্রাকের ত্রাণ লুট করে নিয়ে গেছে। কালকে গুদাম লুট করে নিয়ে যাবে।

আর যেখানে লকডাউন কাজ করে না। সেখানে আপনি যদি গর্তের ভিতরেও গিয়ে ঢুকে থাকেন। ভাইরাস আপনার কাছে পৌছে যাবে; আজ হোক কিংবা কাল হোক।

আমাদের ভ্যাক্সিন দরকার। আর কিছুই আমাদের বাচাতে পারবে না।

কিন্তু ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধের ইতিহাস তেমন একটা আমাদের পক্ষে না। ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধটা গৌরবের। আলেকজান্ডার ফ্লেমিং এর পেনিসিলিন আবিষ্কারের পর আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। কিন্তু ভাইরাসদের সাথে আমরা তেমন একটা পেরে উঠতে পারি নি। জিকা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন ৭৩ বছর,চিকেন পক্সের ভ্যাক্সিন ৪২ বছর, হেপাটাইটিস বি ১৬ বছর, ইবোলার ভ্যাক্সিন ৪০ বছর লেগেছে আবিষ্কার করতে। মার্স,এইডস,ডেংগু’র ভ্যাক্সিন এখনো আবিষ্কৃত হয় নি।

আর করোনা এসেছে মাত্র এইবছর! কবে ভ্যাক্সিন আসবে কেউ জানে না। তবুও এইটা ডেস্পারেট টাইম। গোটা পৃথিবীরর বিজ্ঞানী রা লেগে আছে কিভাবে কিভাবে একটা ভ্যাক্সিন বানানো যায়। হয়তো চলেও আসবে। তবে খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে এইটা আশাও করা যায় না।

  • সংগৃহীত

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 1 =




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মানবতার ডাক - ২০২০
Development By Eliyas Ahmed