সাম্প্রতিক :
মুখে বলবে- নারী স্বাধীনতা, কিন্তু করবে নারী দিয়ে ব্যবসা। একটি পেঁপের মূল্য ১ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা! করোনায় আতংক নয়! সামান্য কয়েক টাকায় করোনার চিকিৎসা! দাবী বাংলাদেশী গবেষকের।। একটি মানবিক আবেদন – মনিরুল ইসলাম উপহারের নামে প্রতারনা! সতর্ক না হলে সর্বস্ব হারাবেন!! মানবিক সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে আবেদন। মে মাসে ১২ তারিখে সুরাইয়া নামক নক্ষত্রের উদয় ও করোনার বিদায় একজন সৎ সঙ্গী আপনাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে পারে। যদি আপনি তাকে অনুসরন করেন। ভাইরাল করলে এটা করুন! কাজে আসতে পারে। সিলেট ওসমানি হাসপাতাল! দরকার হলে মাটি খেয়ে পড়ে থাকুন! তবুও ঘরেই থাকুন। কেন বলছি, হিসাবটা মিলিয়ে দেখুন ||
এই হলো বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের সেম্পল কালেকশানের চিত্র! ঢামেক থেকে তুলা ছবি।

এই হলো বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের সেম্পল কালেকশানের চিত্র! ঢামেক থেকে তুলা ছবি।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা সম্ভাব্য আক্রান্তদের স্যাম্পল কালেকশন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুর্ভোগঃ

পোস্টের সাথে সংযুক্ত যে ছবিটি দেখতে পারছেন এটা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি গেটের পাশে করা করোনার টেস্ট করতে আসা রোগীদের জন্য নির্ধারিত অবজারভেশন রুম। ছবির মত এভাবেই দুই বেডে আটজন সহ কেও ফ্লোরে কিংবা চেয়ারে পাশাপাশি বসে থাকে এই রুমে। যেখানে ৩ ফিট দূরত্ব তো দূরে থাক ১ ফিট থাকে কিনা সন্দেহ।

আমার আব্বুর টানা ৫-৬ দিন জ্বর থাকায় ৮ তারিখে করোনা টেস্ট করিয়ে ৯ তারিখ পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরপর ১০ তারিখ সকালে তাকে কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দিয়ে আমরা বাকি ৩ জন ঢাকা মেডিকেলে টেস্ট করাতে যাই। কিন্তু সেদিন তারা নেয়নি বললো পরের দিন সকালে আসেন।
তাই গতকাল ১০.২০ এ আমরা করোনার টেস্ট করাতে আসা রোগীদের নির্ধারিত রুমে প্রবেশ করি। আমাদের কাছ থেকে আমাদের ফরম আর টিকেট নিয়ে যায় তারা৷ বলা হয় যে স্যাম্পল কালেকশনের জন্য আসবে একটু পর৷ এভাবে ধীরে ধীরে রোগী এনে রুমে ঢুকাতে থাকে তারা। এক এক ১৯ জন করোনা সাস্পেক্টেড রোগী একটা রুমে রেখে যায় আমরা। আমাদের ৩ জনের মত কয়েকজনেরই কোন লক্ষণ ছিলনা করোনার কিন্তু সেখানে অনেকেরই করোনার স্পষ্ট লক্ষণ ছিল৷ একজন নারী সারাক্ষণ শ্বাসকষ্টে হাপাচ্ছিল আর ছটফট করছিল, উনার পাশেই শোয়া ছিল ৭ বছরের এক বাচ্চা।

ঠিক ৩ টার দিকে ৩ জনের একটা টিম এসে ৬-৭ জনের স্যাম্পল নিয়ে যায় যেখানে কোন সিরিয়াল মেইনটেইন করা হয়নি, এমন অনেকে ছিল যারা আজকেই টিকেট কেটেছে৷ আমাদের মত যারা দুইদিন ধরে ঘুরছে তাদের কোন নাম নেই তাদের কাছে।
৩.২৫ এ তারা চলে যায়, আর বলে যায় ১০-১৫ মিনিটের মাঝে আবার আসবে। কিন্তু সেই ১০-১৫ মিনিট যেন আর শেষ হয়না৷ ১০-১৫ মিনিট বলতে বলতে ৬ টা বেজে যায়। এদিকে আমরা সবাই না খাওয়া। দুপুরে ভাত দিয়েছিল কিন্তু সেগুলো মুখে দেয়ার মত না। সবচেয়ে বড় প্রব্লেম ছিল আমাদের তারা রুম থেকে বের হতে দিচ্ছিলনা, যার কারনে না পারছিলাম কোন খাবার কিনে আনতে। আম্মু বয়স্ক। ছোট ভাই ও আম্মু দুইজনই দূর্বল হয়ে পড়ে সে অবস্থায়৷
এরপর ৭ টার দিকে ৩ জনের আরেকটা গ্রুপ আসে স্যাম্পল কালেক্ট করতে। তারা এসে ৩-৪ জনের টা নেয়ার পর বলে আমাদের নাম তাদের কাছে নেই। আমাদের কাগজ নাকি হারিয়ে গেছে। বললো নতুন করে কাগজ করে আনতে। তাই দৌড়ে গিয়ে আবার ফরম ফিলাপ করে আনার পর তারা ৯ ঘন্টা বসিয়ে রাখার পর স্যাম্পল কালেক্ট করে।

যে কয়েকটা বিষয় খুব ভয়াবহ ছিল সেখানেঃ
১। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানে যে এখানের সবাই করোনা সাস্পেক্ট। কিন্তু তারা হাসপাতালে প্রবেশের পর থেকে শুরু করে একবারো এই রোগীদের জীবানুনাশক দিয়ে জীবানুমুক্ত করার চেষ্টা করেনি। তারা সবাই পিপিই পড়ে ঘুরলেও হাসপাতালে আসা অন্য কেও যে এই রোগীদের মাধ্যমে আক্রান্ত হবে কিনা এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

২। এক রুমে এমন গাদাগাদি করে করোনার মত রোগী পৃথিবীর কোথাও রাখে কিনা জানিনা। কেও কেও অনবরত কাশছিলো যা আমাদের মত কোন লক্ষণ ছাড়া রোগীদের জন্য অনেক দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল।

৩। রুম ছিল নোংরা। আগের দিনের রোগীদের ব্যবহৃত খাবারের বর্জ্য, প্যাকেট এগুলা পড়ে থাকতে দেখেছি। আর রুমের বাইরে দিয়ে ক্লিন করে গেলেও রুমে কিছু করেনি। কোন জীবাণুনাশক ও দিয়ে যায়নি।

৪। যখন স্যাম্পল নেয়া হচ্ছিলো তখন কেও কেও বমি করে দিচ্ছিলো। কিন্তু সেগুলো পরিষ্কার ও করা হচ্ছিলনা।।

এছাড়াও রুমে অনেক গরম ছিল। কোন জানালা খোলার উপায় ছিলনা। সব মিলিয়ে কেও করোনা আক্রান্ত না থাকলেও সেখানে থাকলে আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার অনেক বেশী সম্ভাবনা আছে। আশা করি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সুনজর দিবে। জানিনা গতকাল ঐ রুম থেকে কতজন আক্রান্ত হয়ে বাসায় ফিরে গেছে। এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে গতরাতে এক বড় ফেসবুক গ্রুপে লিখি কিন্তু সেটা এডমিন ডিলিট করে দিয়েছে। তাই নিজের টাইমলাইনেই দিয়ে দিলাম।

সবাই বাসায় থাকুন, নিজে নিরাপদ থাকুন, অন্যকে নিরাপদ রাখুন। করোনার লক্ষণ দেখা গেলে টেস্ট করাতে যাওয়ার আগে হাসপাতালের পরিবেশ দেখুন তার পর যান।

লিখেছেনঃ- মনির হোসাইন।
Monir Hossain

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen + five =




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত মানবতার ডাক - ২০২০
Development By Eliyas Ahmed